মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

জয়যাত্রা প্রতিদিন’-এর একতরফা ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

বরিশাল প্রতিনিধি, প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জয়যাত্রা প্রতিদিন’-এর একতরফা ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘জয়যাত্রা প্রতিদিন’ অনলাইন পোর্টাল এবং ফেসবুক পেজে বরিশালের নদীভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল অঞ্চলের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদকে জড়িয়ে যে ভিডিও ও সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রকাশিত ওই সংবাদটিকে সম্পূর্ণ একপক্ষীয়, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করা হয়েছে।

​গণমাধ্যমের নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো সংবাদের সত্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নৈতিকতা সবসময় উভয় পক্ষের বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য ও নিরপেক্ষ তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সাংবাদিকতার সর্বজনীন নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো সংবাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করার কথা থাকলেও, আলোচ্য সংবাদটিতে সেই মৌলিক নীতিমালা উপেক্ষা করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ​ঘটনার বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে পত্রিকা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চিফ রিপোর্টার ও ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল।

সে সময় উভয় পক্ষের বক্তব্য সমন্বয়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্মত চুক্তি ও নৈতিকতার প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন না করেই একতরফা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়, যা সাংবাদিকতার আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ​সাংবাদিকতার নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগমূলক সংবাদ প্রকাশের পূর্বে তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

সংশ্লিষ্ট ঘটনায় যার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য যথাযথ সময় চেয়ে ঢাকায় ফিরে সরাসরি যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছিলেন। এবং পত্রিকার পক্ষ থেকে শফিকুল ইসলাম পাঁচ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন মরলে অর্থ চেয়েছিলেন সেটা না পাওয়ায় তিনি এসব বিতির নিউজ প্রকাশ করেন। সূত্রে আরো জানা যায় যতক্ষণ এই পাঁচ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপন মূল্যের অর্থ উনাকে না দেওয়া হবে, ততক্ষণ জয়যাত্রা প্রতিদিন পত্রিকায় ধারাবাহিক নিউজ করে যাবেন তা তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়েছেন।

কিন্তু সেই সময়ের অপেক্ষা না করে তড়িঘড়ি করে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উল্লেখ্য, এর আগেও জাতীয় ও মূলধারার তিন থেকে চারটা সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছিল, অতঃপর থানায় দুটি আইনগত প্রক্রিয়ায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

​সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবাদ প্রকাশ কেবল প্রচারের হাতিয়ার নয়, এটি একটি সামাজিক আমানত। একপক্ষীয় তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। হলুদ সাংবাদিকতা কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি প্রতিহত করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

​উক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একতরফা সংবাদের বিষয়ে যথাযথ অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবাদলিপি বা সংশোধনী প্রকাশ করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার ও হলুদ সাংবাদিকতা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বের প্রতিবেদনে।

gaedh

মাদক নিয়ে চলছে চালবাজি, চুনোপুঁটি আটক: রহস্যজনক ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা? ​বিশেষ প্রতিনিধি:

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ এম
মাদক নিয়ে চলছে চালবাজি, চুনোপুঁটি আটক: রহস্যজনক ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা?  ​বিশেষ প্রতিনিধি:

 

​বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার ও কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তৎপরতা চললেও কার্যকর কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এসব অবৈধ কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের একটি অংশ জড়িত থাকায় মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিক্ষিপ্ত অভিযানে কেবল কিছু মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতা আটক হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ​মুগদা থানার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি পয়েন্টে মাদক কারবার সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মানিকনগর, মুগদা স্টেডিয়াম এলাকা, মুগদা ঝিলপাড়, মদিনাবাগ ময়লার ডাস্টবিন এলাকা, দক্ষিণ মুগদা রাজার গলি, মান্ডা সুখনগর, জামাইর টেক, মান্ডা ঝিলপাড়, পিয়ারআলী গলি, প্রথম গলি এবং ল্যাটকা ফকিরের গলি। এছাড়া মানিকনগর বিশ্বরোড, কুমিল্লা পট্টি আনন্দধারা, প্রেমগলি, মিজান গলি, ওয়াসা রোড, পূর্ব মানিকনগর নতুন পাকার মাথা ও ঠেলাওয়ালা গলিসহ অলিগলিতে নিয়মিত মাদক কেনাবেচা চলছে।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চললেও সরবরাহকারী ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। অভিযানে কেবল চুনোপুঁটিদের আটক করে আইনি প্রক্রিয়া সারানো হলেও সমস্যার মূল উৎপাটন সম্ভব হচ্ছে না।

​এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “পুলিশ মাঝে মাঝে খুচরা আসামিদের ধরে ঠিকই, কিন্তু ২-৩ দিন পরেই তারা জামিনে বের হয়ে আসে। থানা এলাকার ভেতরেই এই কারবার দিনরাত চলছে, অথচ নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের টিকিও ছোঁয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের সাম্রাজ্য আরও মজবুত করেছে। অবৈধ মাদকের টাকায় অনেকেই চার-পাঁচ তলা একাধিক বাড়ির মালিক বনে গেছে।”​পরিস্থিতির ভয়াবহতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সমাজসেবক ও সাধারণ অভিভাবকবৃন্দ।

তাঁদের মতে, মাদকের এই নীল ছোবল ও কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যে এলাকার সন্তান ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তাঁরা আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ দাবি জানান। একইসাথে, সংঘাতের পথ ছেড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মুগদাবাসী। জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে দ্রুত জোরালো পদক্ষেপের আশা করছেন তাঁরা।

​মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানতে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানীরা। ড. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “মাদক নির্মূল করতে হলে কেবল প্রান্তিক পর্যায়ের মাদকসেবী বা খুচরা বিক্রেতাদের ধরপাকড় করে কোনো লাভ হবে না। রাঘববোয়াল বা সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে অপরাধের সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হয়। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”

​ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুব শক্তি সামাজিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ রাসেল সরকার বলেন, “অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বারবার মুগদার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকের বিস্তারের চিত্র উঠে এলেও শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের রহস্যজনক নীরবতা অত্যন্ত হতাশাজনক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য আমলে নিয়ে যদি এখনই কার্যকর অভিযান না চালানো হয়, তবে আমাদের যুবসমাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।” ​তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ‘যুব শক্তি সামাজিক আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় জোরালো ভূমিকা রাখছি এবং সাংগঠনিক বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। কিন্তু আফসোসের বিষয়, কোন কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রকৃত রহস্য কোথায়, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” ​

একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই এখন মুগদাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।

উল্লেখ: মাদক নিয়ে চলছে চালবাজি, ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে আসছে পরিপূর্ণ আপডেট।

অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

, সালমা সুলতানা, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ এম
অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":3,"transform":3},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

রোকেয়া চৌধুরী,

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সদস্য প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার-এর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, মনগড়া তথ্য ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কতিপয় নামসর্বস্ব পোর্টালে ড্রেজিং প্রকল্প ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এই ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানিয়েছেন।

প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার কে নিয়ে এই ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানায় পরপর দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং সংস্থায় তাঁর ক্রমবর্ধমান সাফল্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ড্রেজিং প্রকল্পসহ সরকারি বিভিন্ন কাজের যে সমস্ত কাল্পনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভুঁইফোড় কিছু মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।

সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ও মনগড়া স্ক্রিপ্ট তৈরি করে সমাজে তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আরও জানা যায়, প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার আইন ও বিধি মোতাবেক সরকারি সকল প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগেরই কোনো আইনি বা তথ্যগত ভিত্তি নেই। বরং একটি বিশেষ মহল নিজেদের অনৈতিক সুবিধা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে তথ্য বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছে।

ধারাবাহিক সাইবার বুলিং ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলকে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পরপর দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। মানহানি এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করার অপরাধে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে ওই অভিযোগসমূহে।

পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, এই ধরণের হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী এমন অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে আইনগতভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ এম
নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

আসমানী শায়লা:

​বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন মো. মামুন উর রশিদ। ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল এই পদে যোগদানের পর থেকেই তিনি সততা ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

তবে সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেটের অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইনে “বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্পে লুটপাটের মহোৎসব নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ সিন্ডিকেটে জিম্মি নৌপথ” শিরোনামে তাঁর এই পেশাগত সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মুগদা ও মতিঝিল থানায় এই চক্রের বিরুদ্ধে পরপর দুটি অভিযোগ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশ পাচার হয়েছে বলে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন দাবি তুলছে ওই অসাধু চক্র। এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি ড্রেজার মেরামতে যেখানে ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে, সেটিকেও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া, খননকৃত পলিমাটি নিয়ম মেনে নদীর পাড় থেকে দূরে না ফেলে মাঝনদীতে ফেলা হচ্ছে—এমন মিথ্যা দাবি তুলে ড্রেজিং প্রকল্পের সুফল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

​তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং সঠিক তদারকি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ড্রেজিং কার্যক্রমে দৃশ্যমান সফলতা এসেছে। নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় এখন সফলতার এক অনন্য উদাহরণ। লঞ্চ মালিক সমিতির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতি বছর নাব্যতা সংকটে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তাম। বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে জাহাজ আটকে থাকা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।

সরকারের হাজার কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার এবং এই নির্বাহী প্রকৌশলীর দক্ষ তত্ত্বাবধানে নদীগুলো সঠিকভাবে ড্রেজিং হওয়ায় আজ সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। ”বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “এখানে একটি সুশৃঙ্খল চেইন রয়েছে, যেখানে অনৈতিকভাবে কোনো ঠিকাদারকে কাজ না করিয়ে বিল উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয় না। এছাড়া জ্বালানি তেল চুরির কোনো সুযোগ না দেওয়ায় বিগত দিনে যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিল, তারাই আজ তাঁর সততার বিরুদ্ধে গোপনে কথা বলছে।” ​নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দক্ষ মনিটরিং এবং ড্রেজিং মনিটরিং সিস্টেম চালু হওয়ার ফলে এই খাতে অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কাজের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

​
বিআইডব্লিউটিএ’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ওই সিন্ডিকেটটি প্রকৌশলী মামুন উর রশীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে নেমেছে। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর অপর এক কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে মামুন উর রশিদের মতো এমন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা পাওয়া বিরল। যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা গোপনে অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।”
​
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদ বলেন, কর্মজীবনে সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।”

​তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করলে শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।” পরিশেষে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, সময় সবকিছুর শ্রেষ্ঠ নির্ণায়ক এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেট পরিকল্পিত ভাবে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, এমনই লেখিত অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে যা বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। অতি শীঘ্রই আপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।