মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্রের ভূমিকা: এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্রের ভূমিকা: এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়। সেদিন ছিল শুক্রবার। ওই সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানো সংবাদপত্রের প্রধান বিষয় ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল, যার জন্য পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছানোর আগেই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক ঘটনা।

১৫ আগস্টের পত্রিকায় শেখ মুজিব ছিলেন মহান নেতা, জাতির পিতা ও দ্বিতীয় বিপ্লবের স্বপ্নদ্রষ্টা। কিন্তু ১৬ আগস্ট থেকেই এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। ১৫ আগস্টের পর প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো খন্দকার মোশতাক আহমদ সরকার এবং সেনাবাহিনীর একটি অংশের কঠোর নজরদারির মধ্যে ছিল। ফলে ওই সময়ের সংবাদপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করলে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক জটিল ও নিয়ন্ত্রিত রূপ ফুটে ওঠে।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র ছিল দৈনিক ইত্তেফাক। ১৬ আগস্ট পত্রিকাটি ‘খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর শাসনক্ষমতা গ্রহণ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ‘জাতির বৃহত্তর স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। একই দিন দৈনিক বাংলাও প্রধান শিরোনামে খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতা গ্রহণের খবর প্রচার করে। বাসসের বরাতে জানানো হয়, সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সামরিক আইন ও কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সেদিন রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ দেশবাসীকে শান্তি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দেশে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং মানুষ যাতে মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সেজন্য সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ তিন বাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ রাইফেলসের মহাপরিচালক, রক্ষীবাহিনীর অস্থায়ী মহাপরিচালক এবং পুলিশের আইজিপি নতুন সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে তৎকালীন নীতি ও অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৬ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক বাংলা উভয়ই সম্পাদকীয়তে সশস্ত্র বাহিনীর এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক প্রয়োজন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ইংরেজি দৈনিক দ্য বাংলাদেশ অবজারভার ও দ্য বাংলাদেশ টাইমসও একই সুরে কথা বলে। অবজারভারের সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল ‘Historical Necessity’, আর বাংলাদেশ টাইমসের শিরোনাম ছিল ‘On the threshold of a new era’।

হত্যাকাণ্ডের পর সংবাদপত্রগুলো শেখ মুজিবের হত্যার বিস্তারিত বা তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর এড়িয়ে যায়। দৈনিক ইত্তেফাক শুধু লিখেছিল, ‘শাসনভার গ্রহণকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান স্বীয় বাসভবনে নিহত হয়েছেন।’ ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবসহ মোট ১৮ জন নিহত হন, যার মধ্যে কর্নেল জামিলও ছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর খবরও সেভাবে আসেনি।

১৮ আগস্ট দ্য বাংলাদেশ অবজারভার ‘Mujib buried at Tungipara’ শিরোনামে মাত্র ২৩ শব্দের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মরদেহ শনিবার টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার পারিবারিক আঙিনায় পূর্ণ মর্যাদায় দাফন করা হয়। তৎকালীন অন্য কোনো সংবাদপত্রে তার দাফনের খবর যথাযথভাবে প্রকাশিত হয়নি।

সাংবাদিকতার সাধারণ নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর খবরের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করা হয়, কিন্তু ১৫ আগস্টের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ১৭ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ‘প্রামাণ্য ছবি ও সংবাদচিত্র প্রত্যাহার’ শিরোনামে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ আগস্ট বা তার আগে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সব প্রামাণ্য ছায়াছবি ও সংবাদচিত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সরকার উৎখাত ও হত্যাকাণ্ডে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত এবং অতীতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ছিল।

১৭ আগস্ট সৌদি আরব ও সুদানের মোশতাক সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার খবর প্রকাশ করে দৈনিক বাংলা। পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বীকৃতির খবরও বাংলাদেশ অবজারভারের প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়। এরপর ইয়েমেন, যুক্তরাজ্য, জর্ডান, জাপান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশ নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।

ভারতের অবস্থান নিয়ে জনমনে আগ্রহ ছিল। ১৭ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিল, ‘ভারতীয় মুখপাত্র বলেন: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণকে ভারত সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছে। ভারতীয় মুখপাত্র জানান, প্রতিবেশী দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলে ভারত তা নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করবে না।

পাঁচ দশক পর এসব সংবাদপত্র শুধু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের একটি অন্ধকার অধ্যায়ের সাক্ষ্য নয়, বরং তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

তার নতুন রাজনৈতিক দর্শন বাকশাল নিয়েও ছিল বিস্তারিত আলোচনা।

এক দিন পরই তাকে অজনপ্রিয় ও কঠোর শাসক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

সংবাদপত্রের পাতা এবং জাতীয় জীবন থেকে তার উপস্থিতিও যেন রাতারাতি মুছে যেতে থাকে।

এমনকি সরকারি নির্দেশে তার ছবি জব্দ করা হয়।

তাদের অনুমোদন ও অনুমতি ছাড়া কোনো কিছু প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

তারা কী প্রকাশ করেছিল, তার পাশাপাশি কী প্রকাশ করেনি, কোন ভাষা ব্যবহার করেছিল এবং কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিল, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

একসময় পত্রিকাটি আওয়ামী লীগের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ছিল।

এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল।

তিনি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন।

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

জুমার নামাজের সুবিধার জন্য দুপুরের পর দেড় ঘণ্টার জন্য কারফিউ তুলে নেওয়া হয়।

এখানে ‘বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ’ কথাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার উৎখাতের ঘটনাকে এই ভাষায় তুলে ধরা হয়েছিল।

সম্পাদকীয়তে স্বাধীনতার পর সাড়ে তিন বছরে মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধানের কথা বলা হয়।

সেখানে দাবি করা হয়, স্বাধীনতার পর মানুষ হতাশা ও বঞ্চনা ছাড়া তেমন কিছু পায়নি।

সেখানে বলা হয়, জাতীয় জীবনে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস, রক্ষীবাহিনী ও পুলিশ নতুন রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।

সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়, জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধারাও এই ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে’ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন করেছেন।

সম্পাদকীয়তে এই পরিবর্তনকে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এতে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের অভিযোগও তোলা হয়।

এতে শুক্রবার ভোরের ক্ষমতার পরিবর্তনকে দেশের জন্য নতুন সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ অবজারভার ও বাংলাদেশ টাইমস উভয় পত্রিকাই ক্ষমতার পরিবর্তনকে নতুন আশার সূচনা হিসেবে তুলে ধরে।

এতে বলা হয়, ‘The body of former President Sheikh Mujibur Rahman was airlifted to Tungipara on Saturday and buried with full honor at his family yard.’

শুধু সংবাদপত্র নয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে থাকা তার ছবিও জব্দ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলো যখন ১৯৭৫ সালের ক্ষমতার পরিবর্তনকে শান্তিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক হিসেবে তুলে ধরছিল, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তখন শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছিল।

সৌদি বাদশাহ খালিদ এবং সুদানের প্রেসিডেন্ট জাফর নিমেইরি খন্দকার মোশতাককে অভিনন্দনবার্তা পাঠান।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

দেশটি সামরিক ও মানবিক সহায়তা দিয়েছিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল।

১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তি সই হয়।

এই কারণে ১৭ আগস্ট বাংলাদেশের প্রায় সব সংবাদপত্রেই ভারতের প্রতিক্রিয়া গুরুত্ব পায়।

উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব অব্যাহত রাখার কথাও বলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল।

স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির টানাপোড়েন ছিল।

নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে।

তবে মোশতাক সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরকারের সম্পর্কের প্রকৃতি ও মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন।

তবে ওই সময়ের সংবাদপত্রে দুই দেশের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপির পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নতুন সরকারকে বিপুল পরিমাণ সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবে।

নতুন সরকারের সঙ্গেও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

তবে তখনও ঢাকার পক্ষ থেকে স্বীকৃতির জন্য কোনো অনুরোধ পাওয়া যায়নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগে ও পরের কয়েক দিনের সংবাদপত্র পাশাপাশি রাখলে একটি বড় পরিবর্তন চোখে পড়ে।

অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রও দ্রুত বদলে যায়।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বদলে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা তৈরির বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়।

এই কারণে ওই সময়ের সংবাদপত্রকে শুধু ঘটনার নিরপেক্ষ দলিল হিসেবে পড়লে পুরো ইতিহাস ধরা যাবে না।

তারা কী লিখেছিল, তার পাশাপাশি কী লেখেনি, কোন ভাষা ব্যবহার করেছিল এবং কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিল, সেগুলোও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এগুলো দেখায়, একটি বড় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যও কত দ্রুত বদলে যেতে পারে।

(লেখক, সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)

gaedh

অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

, সালমা সুলতানা, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ এম
অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":3,"transform":3},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

রোকেয়া চৌধুরী,

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সদস্য প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার-এর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, মনগড়া তথ্য ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কতিপয় নামসর্বস্ব পোর্টালে ড্রেজিং প্রকল্প ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এই ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানিয়েছেন।

প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার কে নিয়ে এই ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানায় পরপর দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং সংস্থায় তাঁর ক্রমবর্ধমান সাফল্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ড্রেজিং প্রকল্পসহ সরকারি বিভিন্ন কাজের যে সমস্ত কাল্পনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভুঁইফোড় কিছু মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।

সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ও মনগড়া স্ক্রিপ্ট তৈরি করে সমাজে তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আরও জানা যায়, প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার আইন ও বিধি মোতাবেক সরকারি সকল প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগেরই কোনো আইনি বা তথ্যগত ভিত্তি নেই। বরং একটি বিশেষ মহল নিজেদের অনৈতিক সুবিধা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে তথ্য বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছে।

ধারাবাহিক সাইবার বুলিং ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলকে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পরপর দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। মানহানি এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করার অপরাধে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে ওই অভিযোগসমূহে।

পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, এই ধরণের হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী এমন অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে আইনগতভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ এম
নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

আসমানী শায়লা:

​বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন মো. মামুন উর রশিদ। ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল এই পদে যোগদানের পর থেকেই তিনি সততা ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

তবে সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেটের অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইনে “বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্পে লুটপাটের মহোৎসব নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ সিন্ডিকেটে জিম্মি নৌপথ” শিরোনামে তাঁর এই পেশাগত সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মুগদা ও মতিঝিল থানায় এই চক্রের বিরুদ্ধে পরপর দুটি অভিযোগ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশ পাচার হয়েছে বলে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন দাবি তুলছে ওই অসাধু চক্র। এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি ড্রেজার মেরামতে যেখানে ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে, সেটিকেও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া, খননকৃত পলিমাটি নিয়ম মেনে নদীর পাড় থেকে দূরে না ফেলে মাঝনদীতে ফেলা হচ্ছে—এমন মিথ্যা দাবি তুলে ড্রেজিং প্রকল্পের সুফল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

​তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং সঠিক তদারকি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ড্রেজিং কার্যক্রমে দৃশ্যমান সফলতা এসেছে। নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় এখন সফলতার এক অনন্য উদাহরণ। লঞ্চ মালিক সমিতির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতি বছর নাব্যতা সংকটে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তাম। বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে জাহাজ আটকে থাকা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।

সরকারের হাজার কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার এবং এই নির্বাহী প্রকৌশলীর দক্ষ তত্ত্বাবধানে নদীগুলো সঠিকভাবে ড্রেজিং হওয়ায় আজ সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। ”বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “এখানে একটি সুশৃঙ্খল চেইন রয়েছে, যেখানে অনৈতিকভাবে কোনো ঠিকাদারকে কাজ না করিয়ে বিল উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয় না। এছাড়া জ্বালানি তেল চুরির কোনো সুযোগ না দেওয়ায় বিগত দিনে যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিল, তারাই আজ তাঁর সততার বিরুদ্ধে গোপনে কথা বলছে।” ​নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দক্ষ মনিটরিং এবং ড্রেজিং মনিটরিং সিস্টেম চালু হওয়ার ফলে এই খাতে অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কাজের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

​
বিআইডব্লিউটিএ’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ওই সিন্ডিকেটটি প্রকৌশলী মামুন উর রশীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে নেমেছে। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর অপর এক কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে মামুন উর রশিদের মতো এমন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা পাওয়া বিরল। যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা গোপনে অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।”
​
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদ বলেন, কর্মজীবনে সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।”

​তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করলে শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।” পরিশেষে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, সময় সবকিছুর শ্রেষ্ঠ নির্ণায়ক এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেট পরিকল্পিত ভাবে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, এমনই লেখিত অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে যা বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। অতি শীঘ্রই আপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

বিশেষ প্রতিনিধি, প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ এম
মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষ, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ৪ অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে, হাসপাতাল কতৃপক্ষের দাওয়ায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ আহত হন এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

​স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাহিমাকে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে তার অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও সারারাত অপারেশন করা হয়নি। পরবর্তীতে শনিবার সকালে অপারেশন থিউটারে নেওয়ার আগেই মাহিমার মৃত্যু হয়।

​মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। স্বজনেরা লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত মাহিমার পরিবারকে ডেকে ১০ লাখ টাকা ও পরিবার থেকে একজনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
​
​ঘটনার সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহ করতে সংবাদকর্মীরা হাসপাতালে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, হাসপাতালের অপরাধ ঢাকতে একটি পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে বা রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাংবাদিকরা ভুল চিকিৎসার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন নেবে এবং কেনই বা চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো—তা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

​পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিচার চাইতে আসা ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের ওপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন রক্তক্ষাক্ত হন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থাকলেও হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
​
​মাহিহার চাচাতো ভাই শাহরিয়ার সবুজ বলেন, “প্রথমে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা দ্রুত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে আসি। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা অপারেশনের প্রস্তুতি নিলেও রাতে তা করেননি, যার ফলে আমার বোন মারা গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। টাকা বা চাকরির কোনো অফার আমরা চাইনি, তারা নিজেরাই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। আমরা কোটি টাকা দিলেও এই আপস মানব না। তারা মিথ্যা বলছে।”
​
​এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি জানান, ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকলে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, এভাবে দলবল নিয়ে এসে হাসপাতালে আতঙ্ক সৃষ্টি করা আইনসম্মত নয়। তবে টাকা দেওয়া বা চাকরির প্রলোভনের বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান এবং উল্টো দাবি করেন যে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা মিলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং তাদের ১০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী আহত হয়েছেন।

​ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার ও সাংবাদিকরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।