মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

কোটি টাকা খরচেও অকার্যকর বেনাপোলের ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কোটি টাকা খরচেও অকার্যকর বেনাপোলের ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করা এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন কার্যত কোনো কাজে আসছে না। স্টেশনটি পরিচালনায় সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় করতে হলেও অতিরিক্ত পণ্য বহন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোলের পণ্য পরিবহনকারী ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা না পাওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের মূল আপত্তি হলো—ভোমরা, নওয়াপাড়া ও মোংলা বন্দরসংলগ্ন সড়কে একই ধরনের ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় শুধু বেনাপোল রুটে স্কেল চালু হলে এই বন্দরের ব্যবসা অন্যত্র চলে যেতে পারে

  • ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন

সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের কারণে অনেক সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত স্থলবাণিজ্যের বড় অংশ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। এ কারণে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপও বেশি।

সড়কটি সুরক্ষায় জাইকার অর্থায়নে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে বেনাপোল পৌর গেট এলাকায় ওয়িং স্কেল স্থাপন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরে স্কেল পরিচালনার জন্য ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও কর্মচারীসহ ৪২ জন স্কেল পরিচালনার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য রয়েছেন আরও সাতজন আনসার সদস্য।

  • জরিমানার বিধান থাকলেও প্রয়োগ নেই

অতিরিক্ত পণ্য বহনের ক্ষেত্রে প্রথম অতিরিক্ত টনের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতি টনের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু স্কেলে অতিরিক্ত ওজন শনাক্ত হওয়ার পরও জরিমানা আদায় কিংবা অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।

ফলে একদিকে সরকারের ব্যয় করা অর্থের সুফল মিলছে না, অন্যদিকে অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • ব্যবসায়ীদের দাবি চার বন্দরেই স্কেল

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জমান সনি বলেন, পদ্মার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেনাপোল ছাড়াও ভোমরা, নওয়াপাড়া ও মোংলা বন্দর রয়েছে। এসব বন্দরের সড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না রেখে শুধু বেনাপোল সড়কে স্কেল চালু করাকে তারা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

তার দাবি, চারটি বন্দরের সড়কেই ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল চালু করা হলে ব্যবসায়ীদের আপত্তি থাকবে না। শুধু বেনাপোল রুটে ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে পণ্য পরিবহনকারীরা অন্য বন্দরের দিকে চলে যেতে পারেন, এতে বেনাপোল বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেনাপোলের ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমানও একই ধরনের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, আশপাশের বন্দরের সড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শুধু বেনাপোল রুটে অতিরিক্ত ওজনের জন্য জরিমানা দিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হবেন না।

  • পুলিশের বক্তব্য

নাভারন হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে।

তিনি বলেন, অনেক ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য থাকলেও ওজনের স্লিপ না থাকায় সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ সমস্যা সমাধানের জন্যই বেনাপোল পৌর গেটে ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল স্থাপন করা হয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতার কারণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। স্কেলটি চালু করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র

 

gaedh

অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

, সালমা সুলতানা, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ এম
অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":3,"transform":3},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

রোকেয়া চৌধুরী,

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সদস্য প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার-এর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, মনগড়া তথ্য ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কতিপয় নামসর্বস্ব পোর্টালে ড্রেজিং প্রকল্প ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এই ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানিয়েছেন।

প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার কে নিয়ে এই ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানায় পরপর দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং সংস্থায় তাঁর ক্রমবর্ধমান সাফল্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ড্রেজিং প্রকল্পসহ সরকারি বিভিন্ন কাজের যে সমস্ত কাল্পনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভুঁইফোড় কিছু মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।

সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ও মনগড়া স্ক্রিপ্ট তৈরি করে সমাজে তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আরও জানা যায়, প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার আইন ও বিধি মোতাবেক সরকারি সকল প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগেরই কোনো আইনি বা তথ্যগত ভিত্তি নেই। বরং একটি বিশেষ মহল নিজেদের অনৈতিক সুবিধা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে তথ্য বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছে।

ধারাবাহিক সাইবার বুলিং ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলকে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পরপর দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। মানহানি এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করার অপরাধে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে ওই অভিযোগসমূহে।

পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, এই ধরণের হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী এমন অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে আইনগতভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ এম
নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

আসমানী শায়লা:

​বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন মো. মামুন উর রশিদ। ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল এই পদে যোগদানের পর থেকেই তিনি সততা ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

তবে সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেটের অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইনে “বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্পে লুটপাটের মহোৎসব নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ সিন্ডিকেটে জিম্মি নৌপথ” শিরোনামে তাঁর এই পেশাগত সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মুগদা ও মতিঝিল থানায় এই চক্রের বিরুদ্ধে পরপর দুটি অভিযোগ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশ পাচার হয়েছে বলে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন দাবি তুলছে ওই অসাধু চক্র। এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি ড্রেজার মেরামতে যেখানে ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে, সেটিকেও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া, খননকৃত পলিমাটি নিয়ম মেনে নদীর পাড় থেকে দূরে না ফেলে মাঝনদীতে ফেলা হচ্ছে—এমন মিথ্যা দাবি তুলে ড্রেজিং প্রকল্পের সুফল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

​তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং সঠিক তদারকি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ড্রেজিং কার্যক্রমে দৃশ্যমান সফলতা এসেছে। নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় এখন সফলতার এক অনন্য উদাহরণ। লঞ্চ মালিক সমিতির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতি বছর নাব্যতা সংকটে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তাম। বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে জাহাজ আটকে থাকা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।

সরকারের হাজার কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার এবং এই নির্বাহী প্রকৌশলীর দক্ষ তত্ত্বাবধানে নদীগুলো সঠিকভাবে ড্রেজিং হওয়ায় আজ সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। ”বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “এখানে একটি সুশৃঙ্খল চেইন রয়েছে, যেখানে অনৈতিকভাবে কোনো ঠিকাদারকে কাজ না করিয়ে বিল উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয় না। এছাড়া জ্বালানি তেল চুরির কোনো সুযোগ না দেওয়ায় বিগত দিনে যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিল, তারাই আজ তাঁর সততার বিরুদ্ধে গোপনে কথা বলছে।” ​নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দক্ষ মনিটরিং এবং ড্রেজিং মনিটরিং সিস্টেম চালু হওয়ার ফলে এই খাতে অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কাজের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

​
বিআইডব্লিউটিএ’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ওই সিন্ডিকেটটি প্রকৌশলী মামুন উর রশীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে নেমেছে। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর অপর এক কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে মামুন উর রশিদের মতো এমন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা পাওয়া বিরল। যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা গোপনে অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।”
​
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদ বলেন, কর্মজীবনে সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।”

​তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করলে শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।” পরিশেষে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, সময় সবকিছুর শ্রেষ্ঠ নির্ণায়ক এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেট পরিকল্পিত ভাবে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, এমনই লেখিত অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে যা বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। অতি শীঘ্রই আপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

বিশেষ প্রতিনিধি, প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ এম
মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষ, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ৪ অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে, হাসপাতাল কতৃপক্ষের দাওয়ায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ আহত হন এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

​স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাহিমাকে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে তার অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও সারারাত অপারেশন করা হয়নি। পরবর্তীতে শনিবার সকালে অপারেশন থিউটারে নেওয়ার আগেই মাহিমার মৃত্যু হয়।

​মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। স্বজনেরা লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত মাহিমার পরিবারকে ডেকে ১০ লাখ টাকা ও পরিবার থেকে একজনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
​
​ঘটনার সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহ করতে সংবাদকর্মীরা হাসপাতালে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, হাসপাতালের অপরাধ ঢাকতে একটি পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে বা রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাংবাদিকরা ভুল চিকিৎসার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন নেবে এবং কেনই বা চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো—তা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

​পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিচার চাইতে আসা ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের ওপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন রক্তক্ষাক্ত হন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থাকলেও হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
​
​মাহিহার চাচাতো ভাই শাহরিয়ার সবুজ বলেন, “প্রথমে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা দ্রুত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে আসি। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা অপারেশনের প্রস্তুতি নিলেও রাতে তা করেননি, যার ফলে আমার বোন মারা গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। টাকা বা চাকরির কোনো অফার আমরা চাইনি, তারা নিজেরাই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। আমরা কোটি টাকা দিলেও এই আপস মানব না। তারা মিথ্যা বলছে।”
​
​এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি জানান, ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকলে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, এভাবে দলবল নিয়ে এসে হাসপাতালে আতঙ্ক সৃষ্টি করা আইনসম্মত নয়। তবে টাকা দেওয়া বা চাকরির প্রলোভনের বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান এবং উল্টো দাবি করেন যে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা মিলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং তাদের ১০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী আহত হয়েছেন।

​ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার ও সাংবাদিকরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।