মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ধামরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিভ্রাট: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধামরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিভ্রাট: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) একযোগে দ্বিতীয় টার্মিনাল মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার প্রথম দিনেই ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিয়ে নানা ধরনের অসংগতি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় প্রশ্নপত্র কম সরবরাহ করা হয়েছে, আবার কোথাও এক শ্রেণির প্রশ্নের প্যাকেটের ভেতর পাওয়া গেছে অন্য শ্রেণির প্রশ্ন। এছাড়া অনেক প্যাকেটে প্রশ্নপত্রের অংশবিশেষ ছাপা না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে। এই অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্রের এই ঘাটতি ও ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন ছয়টি কম ছিল। অন্য কয়েকটি বিদ্যালয়ে একই শ্রেণির প্রশ্ন যথাক্রমে পাঁচটি, সাতটি ও ১৭টি পর্যন্ত কম পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভাড়ারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণির প্রশ্নের প্যাকেটে দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির প্যাকেটের ভেতর প্রথম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন পাওয়া গেছে। ওই বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণিতে ২২ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪২ জন শিক্ষার্থী ছিল, যেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নপত্রের ঘাটতি ছিল ২০টি।

চন্দ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। সেখানে চতুর্থ শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের প্যাকেট খোলা হলে ভেতরে বাংলা বিষয়ের প্রশ্ন পাওয়া যায় এবং সেখানেও প্রশ্নপত্রের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। প্রশ্নপত্রের এই ঘাটতি মেটাতে অনেক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ফটোকপি করার উদ্যোগ নিতে হয়। এই প্রক্রিয়ার সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে আলাদা কক্ষে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্রের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে, যা কোমলমতি শিশুদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, শুধু প্রশ্নের সংখ্যা কম বা প্যাকেট অদলবদল হওয়া নয়, অনেক প্রশ্নপত্র পুরোপুরি ছাপা হয়নি। কোনো কোনো পৃষ্ঠার একটি অংশ ছাপা থাকলেও বাকি অংশ সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র নিয়ে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দ্রুত ফটোকপি করে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হয়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু করা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগে গোপনীয়তার খাতিরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হয় না। কিন্তু পরীক্ষার সময় প্যাকেট খুলতে গিয়েই এই ভয়াবহ ভুলগুলো ধরা পড়ে। এক প্রধান শিক্ষক জানান, দ্বিতীয় শ্রেণির তিনটি ইংরেজি প্রশ্ন কম ছিল এবং প্যাকেটের ভেতরে ভুল প্রশ্ন ছিল। অন্য এক শিক্ষক জানান, প্রথম শ্রেণির প্যাকেটের ভেতরে দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির প্যাকেটের ভেতর প্রথম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নের সংখ্যাও একটি কম ছিল।

অন্য এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তার বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্রের ঘাটতি না থাকলেও আশপাশের চার-পাঁচটি বিদ্যালয়ে একই ধরনের সমস্যা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলো নিজেরাই প্রশ্ন তৈরি করতে পারে এবং প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু ধামরাইয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র তৈরি ও সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। প্রথম টার্মিনাল পরীক্ষার সময়ও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

প্রশ্নপত্র তৈরির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টিও এখন বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্ন তৈরির জন্য জনপ্রতি ১০ টাকা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ১২ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। ধামরাইয়ের ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এই হিসাবে প্রশ্নপত্র তৈরির নামে কয়েক লাখ টাকা তোলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস কেন এই দায়িত্ব নিল এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব কোথায়?

পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্নপত্র না পাওয়া বা ভুল প্রশ্ন পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্রের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হওয়ায় পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে শিক্ষক ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন ভুল কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশ্নপত্র কম থাকা, ভুল প্যাকেটে অন্য শ্রেণির প্রশ্ন থাকা কিংবা অসম্পূর্ণ প্রশ্ন সরবরাহের কারণে শিশুদেরই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তারা ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোবাখখারুল ইসলাম মিজান জানান, তিনি অভিযোগগুলো শুনেছেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। তবে প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব ও অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার কোনো সদুত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

পরিশেষে, ধামরাইয়ের এই ঘটনাটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা না করে যেভাবে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে, তা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। আগামীতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান দাবি।

gaedh

অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

, সালমা সুলতানা, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ এম
অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":3,"transform":3},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

রোকেয়া চৌধুরী,

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সদস্য প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার-এর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, মনগড়া তথ্য ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কতিপয় নামসর্বস্ব পোর্টালে ড্রেজিং প্রকল্প ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এই ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানিয়েছেন।

প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার কে নিয়ে এই ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানায় পরপর দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং সংস্থায় তাঁর ক্রমবর্ধমান সাফল্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ড্রেজিং প্রকল্পসহ সরকারি বিভিন্ন কাজের যে সমস্ত কাল্পনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভুঁইফোড় কিছু মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।

সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ও মনগড়া স্ক্রিপ্ট তৈরি করে সমাজে তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আরও জানা যায়, প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার আইন ও বিধি মোতাবেক সরকারি সকল প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগেরই কোনো আইনি বা তথ্যগত ভিত্তি নেই। বরং একটি বিশেষ মহল নিজেদের অনৈতিক সুবিধা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে তথ্য বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছে।

ধারাবাহিক সাইবার বুলিং ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলকে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পরপর দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। মানহানি এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করার অপরাধে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে ওই অভিযোগসমূহে।

পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, এই ধরণের হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী এমন অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে আইনগতভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ এম
নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

আসমানী শায়লা:

​বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন মো. মামুন উর রশিদ। ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল এই পদে যোগদানের পর থেকেই তিনি সততা ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

তবে সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেটের অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইনে “বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্পে লুটপাটের মহোৎসব নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ সিন্ডিকেটে জিম্মি নৌপথ” শিরোনামে তাঁর এই পেশাগত সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মুগদা ও মতিঝিল থানায় এই চক্রের বিরুদ্ধে পরপর দুটি অভিযোগ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশ পাচার হয়েছে বলে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন দাবি তুলছে ওই অসাধু চক্র। এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি ড্রেজার মেরামতে যেখানে ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে, সেটিকেও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া, খননকৃত পলিমাটি নিয়ম মেনে নদীর পাড় থেকে দূরে না ফেলে মাঝনদীতে ফেলা হচ্ছে—এমন মিথ্যা দাবি তুলে ড্রেজিং প্রকল্পের সুফল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

​তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং সঠিক তদারকি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ড্রেজিং কার্যক্রমে দৃশ্যমান সফলতা এসেছে। নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় এখন সফলতার এক অনন্য উদাহরণ। লঞ্চ মালিক সমিতির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতি বছর নাব্যতা সংকটে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তাম। বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে জাহাজ আটকে থাকা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।

সরকারের হাজার কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার এবং এই নির্বাহী প্রকৌশলীর দক্ষ তত্ত্বাবধানে নদীগুলো সঠিকভাবে ড্রেজিং হওয়ায় আজ সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। ”বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “এখানে একটি সুশৃঙ্খল চেইন রয়েছে, যেখানে অনৈতিকভাবে কোনো ঠিকাদারকে কাজ না করিয়ে বিল উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয় না। এছাড়া জ্বালানি তেল চুরির কোনো সুযোগ না দেওয়ায় বিগত দিনে যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিল, তারাই আজ তাঁর সততার বিরুদ্ধে গোপনে কথা বলছে।” ​নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দক্ষ মনিটরিং এবং ড্রেজিং মনিটরিং সিস্টেম চালু হওয়ার ফলে এই খাতে অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কাজের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

​
বিআইডব্লিউটিএ’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ওই সিন্ডিকেটটি প্রকৌশলী মামুন উর রশীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে নেমেছে। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর অপর এক কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে মামুন উর রশিদের মতো এমন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা পাওয়া বিরল। যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা গোপনে অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।”
​
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদ বলেন, কর্মজীবনে সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।”

​তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করলে শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।” পরিশেষে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, সময় সবকিছুর শ্রেষ্ঠ নির্ণায়ক এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেট পরিকল্পিত ভাবে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, এমনই লেখিত অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে যা বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। অতি শীঘ্রই আপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

বিশেষ প্রতিনিধি, প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ এম
মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষ, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ৪ অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে, হাসপাতাল কতৃপক্ষের দাওয়ায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ আহত হন এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

​স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাহিমাকে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে তার অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও সারারাত অপারেশন করা হয়নি। পরবর্তীতে শনিবার সকালে অপারেশন থিউটারে নেওয়ার আগেই মাহিমার মৃত্যু হয়।

​মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। স্বজনেরা লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত মাহিমার পরিবারকে ডেকে ১০ লাখ টাকা ও পরিবার থেকে একজনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
​
​ঘটনার সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহ করতে সংবাদকর্মীরা হাসপাতালে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, হাসপাতালের অপরাধ ঢাকতে একটি পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে বা রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাংবাদিকরা ভুল চিকিৎসার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন নেবে এবং কেনই বা চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো—তা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

​পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিচার চাইতে আসা ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের ওপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন রক্তক্ষাক্ত হন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থাকলেও হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
​
​মাহিহার চাচাতো ভাই শাহরিয়ার সবুজ বলেন, “প্রথমে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা দ্রুত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে আসি। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা অপারেশনের প্রস্তুতি নিলেও রাতে তা করেননি, যার ফলে আমার বোন মারা গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। টাকা বা চাকরির কোনো অফার আমরা চাইনি, তারা নিজেরাই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। আমরা কোটি টাকা দিলেও এই আপস মানব না। তারা মিথ্যা বলছে।”
​
​এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি জানান, ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকলে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, এভাবে দলবল নিয়ে এসে হাসপাতালে আতঙ্ক সৃষ্টি করা আইনসম্মত নয়। তবে টাকা দেওয়া বা চাকরির প্রলোভনের বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান এবং উল্টো দাবি করেন যে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা মিলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং তাদের ১০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী আহত হয়েছেন।

​ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার ও সাংবাদিকরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।