মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

২০২৬ সালে নেটফ্লিক্সে সবচেয়ে বেশি দেখা ১০ সিনেমা কোনগুলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৪ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
২০২৬ সালে নেটফ্লিক্সে সবচেয়ে বেশি দেখা ১০ সিনেমা কোনগুলো

বছরের প্রথম ছয় মাসেই নেটফ্লিক্সে সিনেমা দেখার হিসাব বেশ জমে উঠেছে। অ্যাকশন থেকে রোমান্স, গ্যাংস্টার ড্রামা থেকে অ্যানিমেশন—দর্শকদের পছন্দের তালিকায় আছে নানা ঘরানার সিনেমা। নেটফ্লিক্সের ‘হোয়াট উই ওয়াচড’ প্রতিবেদনের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্ল্যাটফর্মটিতে মোট ৯৭ বিলিয়ন ঘণ্টার কনটেন্ট দেখা হয়েছে। এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি দেখা ১০ সিনেমার তালিকা দেখে নেওয়া যাক।

১০. ‘অফিস রোমান্স’: জেনিফার লোপেজ ও ব্রেট গোল্ডস্টেইন অভিনীত এই রোমান্টিক কমেডির গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন সফল এয়ারলাইন প্রধান নির্বাহী ও নতুন নিয়োগ পাওয়া এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনজীবীকে ঘিরে। জ্যাকি ক্রুজ একজন পারফেকশনিস্ট সিইও। অন্যদিকে ড্যানিয়েল ব্লাঞ্চফ্লাওয়ার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভীষণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। প্রথমে সেই আকর্ষণ অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। ৫ কোটি ৮৪ লাখ ভিউ নিয়ে ‘অফিস রোমান্স’ নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে। সাধারণত কর্মক্ষেত্রের প্রেম নিয়ে নির্মিত গল্পে ক্ষমতাবান পুরুষ ও অধস্তন নারী কর্মীর সম্পর্ক দেখানো হয়। অফিস রোমান্স সেই চেনা সমীকরণ উল্টে দিয়েছে। এখানে ক্ষমতার ভারসাম্য ভিন্ন। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন বেটি গিলপিন, অ্যামি সেডারিস, টনি হেল ও ব্র্যাডলি হুইটফোর্ড।

৯. ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’: ৬ কোটি ৩৯ লাখ ভিউ নিয়ে এই সিনেমা তালিকার নবম স্থানে রয়েছে। বার্মিংহামের আলোচিত গ্যাংস্টার পরিবার শেলবিরা আবারও ফিরেছে। ছয় মৌসুমের সিরিজ শেষ হওয়ার চার বছর পর বড় পর্দায় এসেছে এই সিনেমা। বহুদিন ধরে নিজের অতীত ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা টমি শেষ পর্যন্ত নির্বাসন ভেঙে ফিরে আসে। পুরোনো শত্রু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং নতুন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র—সবকিছুর মধ্যে টমি ও ডিউকের সম্পর্কও সিনেমাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একদিকে বাবার দীর্ঘ অনুপস্থিতি, অন্যদিকে পরিবারের নেতৃত্বে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা—দুই প্রজন্মের শেলবির সংঘাতই এর মূল উপজীব্য।

৮. ‘দ্য ক্র্যাশ’: ২০২২ সালের ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর স্ট্রংসভিল শহরে ঘটে ভয়াবহ এক গাড়ি দুর্ঘটনা। ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মাইল গতিতে চলা একটি গাড়ি একটি ইটের ভবনে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির তিন আরোহীর মধ্যে দুজন নিহত হন। শুরুতে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসতে থাকে অন্য এক চিত্র। দুর্ঘটনার আড়ালে পরিকল্পিত অপরাধের আশঙ্কাও খতিয়ে দেখতে শুরু করেন গোয়েন্দারা। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া চালক, তাঁর প্রেমিক ও তাঁদের বন্ধুর জটিল সম্পর্কের ভেতর দিয়ে এগিয়েছে এই ট্রু-ক্রাইম তথ্যচিত্রটি।

৭. ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’: বন্ধুত্ব কি একসময় প্রেমে পরিণত হতে পারে? এ প্রশ্নই সামনে রেখে এগিয়েছে এই সিনেমা। এমিলি বেডার ও টম ব্লাইথ অভিনীত সিনেমাটিতে পপি ও অ্যালেক্স দীর্ঘদিনের বন্ধু। প্রায় এক দশক ধরে প্রতি গ্রীষ্মে তাঁরা একসঙ্গে ভ্রমণে বের হন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে থাকে। এমিলি হেনরির জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন সারাহ ক্যাথরিন হুক, জামিলা জামিল, লুসিয়েন লাভিসকাউন্ট ও লুকাস গেজ। পপি চরিত্রে বেডারকে প্রাণবন্ত ও অগোছালো এক তরুণীর চরিত্রে দেখা যায়। অন্যদিকে ব্লাইথের অ্যালেক্স অনেক শান্ত, সংযত ও হিসাবি। এই বিপরীত স্বভাবই তাঁদের দৃশ্যগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

৬. ‘থ্র্যাশ’: একটি হারিকেন আঘাত হানে উপকূলীয় একটি শহরে। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় শহরের স্বাভাবিক জীবন। ঝড়ের তাণ্ডবে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, বাইরে থেকে উদ্ধারকারী দলও পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু ঝড় থামার পরও বিপদ কাটে না। প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে শহরে ঢুকে পড়ে একদল হিংস্র ও ক্ষুধার্ত হাঙর। একদিকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর, অন্যদিকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়া হাঙরের আতঙ্ক। ফোবি ডাইনেভর, ডিজিমন হাউন্সু ও হুইটনি পিক অভিনীত এই সারভাইভাল থ্রিলারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাণঘাতী শিকারির ভয়। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন ‘ডোন্ট ব্রিদ’ নির্মাতা।

৫. ‘অ্যাপেক্স’: শার্লিজ থেরন অভিনীত ‘অ্যাপেক্স’-এর গল্প শুরু হয় একজন একাকী নারী শাশাকে কেন্দ্র করে। শোকাহত এই নারী মানসিক শান্তির খোঁজে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম প্রাকৃতিক পরিবেশে যান। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় বেনের সঙ্গে। কিন্তু বেন আর দশজনের মতো নন। তিনি একজন নির্মম সাইকোপ্যাথ। শাশাকে তিনি জড়িয়ে ফেলেন এক ভয়ংকর ‘ইঁদুর–বিড়াল’ খেলায়। বেন তাঁকে পালানোর সুযোগ দেন। এরপর শুরু হয় শিকারি ও শিকারের প্রাণঘাতী লড়াই। বেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ট্যারন এগারটন। সিনেমাটিতে কখন কার হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে, সেই টানাপোড়েন ভালোভাবেই ধরে রাখা হয়েছে।

৪. ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’: ২০২৬ সালের তালিকায় ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া একমাত্র সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’। কে-পপ আর দানব—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার সংমিশ্রণ দর্শকদের বেশ অবাক করেছে। রেকর্ডের দিক থেকেও সিনেমাটির সাফল্য উল্লেখ করার মতো। মুক্তির এক বছর পরও ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’ নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল টপ ১০-এ টানা ৫২ সপ্তাহ অবস্থান করেছে। নেটফ্লিক্সের দর্শকদের কাছে এটি একটি কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

৩. ‘সোয়াপড’: অ্যানিমেটেড সিনেমাটির গল্পের কেন্দ্রে ছোট্ট বনজ প্রাণী অলি ও রাজকীয় পাখি আইভি। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়; বরং তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। একমুহূর্তে নিজের পরিচিত জীবন থেকে ছিটকে পড়ে অলি ও আইভি। এবার অলি পাখির জীবন আর আইভিকে বনের ছোট্ট প্রাণী হিসেবে চলাফেরা করতে হয়। শুরুতে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও পরে তারা একে অপরের গুরুত্ব বুঝতে পারে। অলির কণ্ঠ দিয়েছেন মাইকেল বি জর্ডান এবং আইভির কণ্ঠ দিয়েছেন জুনো টেম্পল। ১৩ কোটি ৮ লাখ ভিউ নিয়ে ‘সোয়াপড’ এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালের অন্যতম সফল অ্যানিমেশন সিনেমা।

২. ‘দ্য রিপ’: নিজেদের হেফাজতে থাকা অর্থ রক্ষা করতে গিয়ে রাতভর লড়াই করতে হয় পুলিশ কর্মকর্তাদের। যাঁরা নব্বইয়ের দশকের দুর্ধর্ষ পুলিশের সিনেমা দেখে বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে এটি দারুণ উপভোগ্য হবে। ১৩ কোটি ৬১ লাখ ভিউ নিয়ে ‘দ্য রিপ’ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সিনেমাটির প্রতিটি দৃশ্য টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। অপরাধ জগতের অন্ধকার দিক এবং আইনের রক্ষকদের নৈতিক দ্বন্দ্বে সিনেমাটি বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

১. ‘ওয়ার মেশিন’: ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ভিউ নিয়ে ‘ওয়ার মেশিন’ এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালের নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমা। মুক্তির মাত্র তিন দিনে ছবিটির ভিউ হয় প্রায় ৩৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন। তিন সপ্তাহ ধরেই নেটফ্লিক্সের শীর্ষ দশের তালিকার এক থেকে তিনের মধ্যে ছিল ‘ওয়ার মেশিন’। সিনেমাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এটি কেবল একটি অ্যাকশন সিনেমা নয়, বরং যুদ্ধের পেছনের জটিল সমীকরণকেও তুলে ধরেছে।

নেটফ্লিক্সের এই তালিকাটি প্রমাণ করে যে দর্শকরা বৈচিত্র্যময় গল্পের প্রতি কতটা আগ্রহী। রোমান্টিক কমেডি থেকে শুরু করে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার—সবই সমানতালে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৬ সালের বাকি মাসগুলোতে আরও নতুন সিনেমা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই তালিকার ক্রম পরিবর্তন করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ‘ওয়ার মেশিন’ তার শীর্ষস্থান ধরে রেখে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

পরিশেষে, নেটফ্লিক্সের এই বিশাল ভিউয়ের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো এখন বিশ্বজুড়ে বিনোদনের মূল ধারায় পরিণত হয়েছে। জেনিফার লোপেজ থেকে শুরু করে শার্লিজ থেরন—তারকাদের উপস্থিতিও দর্শকদের আকৃষ্ট করার অন্যতম কারণ। আগামী দিনগুলোতে নেটফ্লিক্স কোন নতুন চমক নিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ড্যানিয়েল চাইলে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারেন না।

কারণ, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের দায়বদ্ধতা রয়েছে।

অন্যদিকে জ্যাকির জন্য সম্পর্কটি শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি তাঁর নেতৃত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িয়ে যায়।

ছবিটি সূক্ষ্মভাবে দেখায়, কর্মক্ষেত্রে প্রেমের ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রশ্নটি কতটা জটিল।

রোমান্টিক কমেডি ঘরানার সিনেমা গত কয়েক বছরে কিছুটা মন্দার মধ্য দিয়ে গেলেও ‘অফিস রোমান্স’ সেই পুরোনো ‘রম-কম’ আবহ ফিরিয়ে এনেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

জেনিফার লোপেজের ‘সেলেনা’ সিনেমার সহশিল্পী এডওয়ার্ড জেমস অলমসের সঙ্গেও আবার পর্দায় দেখা গেছে তাঁকে।

তবে এবার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র টমির বিচ্ছিন্ন ছেলে ডিউক শেলবি।

একটি নাৎসি ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে ডিউক, আর সেই ষড়যন্ত্র ক্রমেই হুমকি হয়ে ওঠে পুরো শেলবি পরিবারের জন্য।

সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন রেবেকা ফার্গুসন, টিম রথ ও স্টিফেন গ্রাহাম।

সাম্প্রতিক সময়ে নেটফ্লিক্সে ওয়েব সিনেমা ও সিরিজের বাইরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত তথ্যচিত্র।

নেটফ্লিক্সের তথ্য অনুযায়ী, লেখক এমিলি হেনরি তাঁদের রসায়ন পরীক্ষার ভিডিও একাধিকবার দেখেছিলেন এবং প্রতিবারই তাঁদের জুটি তাঁর ভালো লেগেছিল।

তাঁদের সম্পর্কের মজাটা তৈরি হয় কথোপকথন, ঠাট্টা, অভিমান আর ছোট ছোট মুহূর্তে।

প্রথম সপ্তাহেই এটি নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রের তালিকায় ১ নম্বরে ওঠে এবং ১ কোটি ৭২ লাখ ভিউ পায়।

বর্তমানে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ভিউ নিয়ে ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ জায়গা করে নিয়েছে তালিকার সপ্তম স্থানে।

ফলে ধ্বংসস্তূপ আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিজেদের বাঁচানোর দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হয় বাসিন্দাদের।

সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন ‘ডোন্ট লুক আপ’-এর অ্যাডাম ম্যাকে ও কেভিন মেসিক।

‘থ্র্যাশ’-এর বিশেষত্ব শুধু হাঙরের আক্রমণে নয়।

সিনেমাটি এমন কয়েকজন মানুষকে একই দুর্যোগের মধ্যে আটকে দেয়, যাঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দুর্বলতা ও ভয় রয়েছে।

ডাকোটা নিজের মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন, লিসা মাতৃত্বের কঠিন পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছেন।

আবার অন্য একটি পরিবারও বন্যার পানিতে আটকা পড়ে যায়।

তিন ভাই–বোনকে নিয়ে বিপদের মধ্যে পড়ে যায় তাঁদের পালক বাবা বিলি ও তাঁর পরিবার।

কে কোথায় আটকা পড়েছে, কে কার কাছে পৌঁছাতে পারবে—এসব প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয় পানির নিচে ঘুরে বেড়ানো হাঙরের আতঙ্ক।

শর্ত, তাঁর পাম্পআপ মিউজিক শেষ হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব দূরে চলে যেতে হবে শাশাকে।

এগারটনের উন্মাদ চিৎকার আর ভয়ংকর ক্রোধভরা চোখের বিপরীতে থেরনের সংযত দৃঢ়তা ও সহনশীলতা তৈরি করেছে দুর্দান্ত এক দ্বন্দ্ব।

সাশা চরিত্রে শার্লিজ থেরন কোনো অজেয় সুপারহিরো নন; বরং সত্যিকারের আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত এক নারী।

তাই যখনই তিনি পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পান, সেটি দর্শকের জন্য রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।

গল্প চিরচেনা হলেও রোমাঞ্চ তৈরিতে নির্মাতার দক্ষতার কারণেই এটি বিশ্বব্যাপী এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

১২ কোটি ৯০ লাখ ভিউ নিয়ে ‘অ্যাপেক্স’ জায়গা করে নিয়েছে তালিকার শীর্ষ পাঁচে।

মিরা, জোয়ি ও রুমি জনপ্রিয় কে-পপ গার্ল গ্রুপ ‘হান্ট্রিক্স’-এর সদস্য।

মঞ্চে গান গাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আরেকটি পরিচয় আছে—তাঁরা দানব শিকার করেন।

তাঁদের সামনে এবার হাজির হয় ‘সাযা বয়েজ’ নামে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী বয় ব্যান্ড।

সমস্যাটা হলো, এই বয় ব্যান্ডের সদস্যরা আসলে দানব।

কে-পপের জনপ্রিয় শিল্পীদের লেখা গান এবং জমজমাট অ্যানিমেশনের কারণে সিনেমাটি দ্রুত দর্শকদের মন জয় করে।

নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে এটিই কোনো সিনেমার টানা টপ টেনে থাকার নতুন রেকর্ড।

এর আগে সর্বোচ্চ টানা ২০ সপ্তাহের রেকর্ড ছিল ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যাটর্নি উ’ সিনেমাটির।

সিনেমাটি ৯৩টি দেশের প্রতিটিতেই শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এবং ৭৬টি দেশে ছিল ১ নম্বরে।

কিন্তু দুর্ঘটনাবশত একটি জাদুকরি পড স্পর্শ করার পরই ঘটে বিপত্তি—দুজনের প্রজাতি পরস্পরের সঙ্গে বদলে যায়।

যে বনভূমিকে তারা নিজেদের ঘর বলে জানে, সেটিকে রক্ষা করাও হয়ে ওঠে তাদের দায়িত্ব।

আর সেই যাত্রায় এত দিনের শত্রুতার জায়গা নিতে শুরু করে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া।

একটি অভিযানে একটি নিরাপদ বাড়িতে ঢুকে তাঁরা হদিস পান ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের।

কিন্তু টাকা পেলেই যে কাজ শেষ, তা নয়।

আইন অনুযায়ী, পুরো অর্থ গুনে হিসাব না করা পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই থাকতে হবে তাঁদের।

কিন্তু এত বিপুল অর্থ এক জায়গায় থাকলে খবর গোপন থাকে না।

ধীরে ধীরে বাইরের লোকজন জানতে পারে টাকার কথা।

চাপ যত বাড়তে থাকে, দলের সদস্যদের মধ্যেও তৈরি হয় সন্দেহ ও অবিশ্বাস—এ টানাপোড়েনই সিনেমাটির উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

ম্যাট ডেমন ও বেন অ্যাফ্লেকের পাশাপাশি সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন কাইল চ্যান্ডলার, স্টিভেন ইয়ুন ও টেয়ানা টেলর।

উচ্চ ঝুঁকির এই ক্রাইম থ্রিলারে এক রাতের ঘটনাই পরিণত হয় বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।

বন্ধুত্ব, লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতার এ রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে বসে দর্শক হতাশ হবেন না।

‘ওয়ার মেশিন’ বহু বছর আগে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা একটি স্বপ্ন পূরণ করতেই কঠিন এক সামরিক প্রশিক্ষণে নামেন এক কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার।

অ্যালান রিচসন অভিনীত ‘ওয়ার মেশিন’-এ একজন কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ইউএস আর্মি রেঞ্জার বাছাইপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

বহু বছর আগে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই শুরু হয় তাঁর কঠিন প্রশিক্ষণ।

কঠোর সামরিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রার্থীদের এবার লড়তে হয় একটি বিশাল ও রহস্যময় হত্যাযন্ত্রের বিরুদ্ধে।

নিজেদের বাঁচাতে সেই যন্ত্রের নজর এড়িয়ে চলাই হয়ে ওঠে তাঁদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সিনেমাটিতে অ্যালান রিচসনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ডেনিস কুয়েড, স্টিফেন জেমস, জাই কোর্টনি ও এসাই মোরালেস।

এর ভেতরে আছে ভ্রাতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও মানসিক শক্তির গল্প।

রিচসনের ভাষায়, এমন এক চরিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁরা, যে ভেঙে পড়ার একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়েও টিকে থাকে।

কারণ, বাস্তব জীবনেও প্রতিদিন এমন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যায় মানুষ।

সিনেমাটির ভক্তদের জন্য আরও একটি সুখবর—এর সিক্যুয়েলও আসছে।

gaedh

অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

, সালমা সুলতানা, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ এম
অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীর তীব্র প্রতিবাদ: থানায় পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":3,"transform":3},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

রোকেয়া চৌধুরী,

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সদস্য প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার-এর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, মনগড়া তথ্য ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কতিপয় নামসর্বস্ব পোর্টালে ড্রেজিং প্রকল্প ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এই ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানিয়েছেন।

প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার কে নিয়ে এই ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানায় পরপর দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং সংস্থায় তাঁর ক্রমবর্ধমান সাফল্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ড্রেজিং প্রকল্পসহ সরকারি বিভিন্ন কাজের যে সমস্ত কাল্পনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভুঁইফোড় কিছু মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই।

সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ও মনগড়া স্ক্রিপ্ট তৈরি করে সমাজে তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আরও জানা যায়, প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার আইন ও বিধি মোতাবেক সরকারি সকল প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগেরই কোনো আইনি বা তথ্যগত ভিত্তি নেই। বরং একটি বিশেষ মহল নিজেদের অনৈতিক সুবিধা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে তথ্য বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছে।

ধারাবাহিক সাইবার বুলিং ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলকে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পরপর দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। মানহানি এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করার অপরাধে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে ওই অভিযোগসমূহে।

পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, এই ধরণের হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী এমন অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে আইনগতভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ এম
নদী খননে দৃশ্যমান সাফল্য: কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুন

আসমানী শায়লা:

​বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন মো. মামুন উর রশিদ। ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল এই পদে যোগদানের পর থেকেই তিনি সততা ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

তবে সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেটের অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইনে “বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্পে লুটপাটের মহোৎসব নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ সিন্ডিকেটে জিম্মি নৌপথ” শিরোনামে তাঁর এই পেশাগত সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মুগদা ও মতিঝিল থানায় এই চক্রের বিরুদ্ধে পরপর দুটি অভিযোগ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশ পাচার হয়েছে বলে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন দাবি তুলছে ওই অসাধু চক্র। এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি ড্রেজার মেরামতে যেখানে ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে, সেটিকেও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া, খননকৃত পলিমাটি নিয়ম মেনে নদীর পাড় থেকে দূরে না ফেলে মাঝনদীতে ফেলা হচ্ছে—এমন মিথ্যা দাবি তুলে ড্রেজিং প্রকল্পের সুফল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

​তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং সঠিক তদারকি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ড্রেজিং কার্যক্রমে দৃশ্যমান সফলতা এসেছে। নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় এখন সফলতার এক অনন্য উদাহরণ। লঞ্চ মালিক সমিতির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতি বছর নাব্যতা সংকটে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তাম। বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে জাহাজ আটকে থাকা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।

সরকারের হাজার কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার এবং এই নির্বাহী প্রকৌশলীর দক্ষ তত্ত্বাবধানে নদীগুলো সঠিকভাবে ড্রেজিং হওয়ায় আজ সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। ”বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “এখানে একটি সুশৃঙ্খল চেইন রয়েছে, যেখানে অনৈতিকভাবে কোনো ঠিকাদারকে কাজ না করিয়ে বিল উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয় না। এছাড়া জ্বালানি তেল চুরির কোনো সুযোগ না দেওয়ায় বিগত দিনে যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিল, তারাই আজ তাঁর সততার বিরুদ্ধে গোপনে কথা বলছে।” ​নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দক্ষ মনিটরিং এবং ড্রেজিং মনিটরিং সিস্টেম চালু হওয়ার ফলে এই খাতে অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কাজের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

​
বিআইডব্লিউটিএ’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ওই সিন্ডিকেটটি প্রকৌশলী মামুন উর রশীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে নেমেছে। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর অপর এক কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে মামুন উর রশিদের মতো এমন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা পাওয়া বিরল। যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা গোপনে অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।”
​
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদ বলেন, কর্মজীবনে সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।”

​তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করলে শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।” পরিশেষে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, সময় সবকিছুর শ্রেষ্ঠ নির্ণায়ক এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সিন্ডিকেট পরিকল্পিত ভাবে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, এমনই লেখিত অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে যা বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। অতি শীঘ্রই আপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

বিশেষ প্রতিনিধি, প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ এম
মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষ, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ৪ অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে, হাসপাতাল কতৃপক্ষের দাওয়ায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ আহত হন এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

​স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাহিমাকে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে তার অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও সারারাত অপারেশন করা হয়নি। পরবর্তীতে শনিবার সকালে অপারেশন থিউটারে নেওয়ার আগেই মাহিমার মৃত্যু হয়।

​মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। স্বজনেরা লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত মাহিমার পরিবারকে ডেকে ১০ লাখ টাকা ও পরিবার থেকে একজনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
​
​ঘটনার সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহ করতে সংবাদকর্মীরা হাসপাতালে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, হাসপাতালের অপরাধ ঢাকতে একটি পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে বা রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাংবাদিকরা ভুল চিকিৎসার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন নেবে এবং কেনই বা চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো—তা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

​পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিচার চাইতে আসা ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের ওপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন রক্তক্ষাক্ত হন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থাকলেও হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
​
​মাহিহার চাচাতো ভাই শাহরিয়ার সবুজ বলেন, “প্রথমে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা দ্রুত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে আসি। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা অপারেশনের প্রস্তুতি নিলেও রাতে তা করেননি, যার ফলে আমার বোন মারা গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। টাকা বা চাকরির কোনো অফার আমরা চাইনি, তারা নিজেরাই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। আমরা কোটি টাকা দিলেও এই আপস মানব না। তারা মিথ্যা বলছে।”
​
​এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি জানান, ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকলে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, এভাবে দলবল নিয়ে এসে হাসপাতালে আতঙ্ক সৃষ্টি করা আইনসম্মত নয়। তবে টাকা দেওয়া বা চাকরির প্রলোভনের বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান এবং উল্টো দাবি করেন যে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা মিলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং তাদের ১০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী আহত হয়েছেন।

​ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার ও সাংবাদিকরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।